News Bangla 24 BD | ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে তেজপাতা চাষ - News Bangla 24 BD
News Head
 পবিত্র ঈদুল ফিতর শেষে ফিরতি যাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হাতে মেহেদির টকটকে লাল রঙ থাকতেই শেষ বিদায় ইরানের আগামী সপ্তাহের মধ্যে কঠোর আঘাত হানা হবে-ডোনাল্ড ট্রাম্প টাঙ্গাইল সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৬ মেট্রিকটন চাল ট্রাক সহ লুটের চেষ্টা সংসদকে সকল যুক্তি তর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই-প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরে পুলিশের অভিযানে পলাতক আসামীসহ ৩৩ আটক বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হলো হোয়াটসঅ্যাপ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সহজ ও কার্যকরী কাজ জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ আততায়ীর গুলি.অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন

ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে তেজপাতা চাষ


জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলা জুড়ে বাণিজ্যিক ভাবে তেজপাতার আবাদ করা হচ্ছে। এর মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলাতে আবাদ হচ্ছে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে। চাষী আছে অন্তত ৬০ জন। তেজপাতার একটি গাছ থেকে বছরে দুবার পাতা তোলা যায়। রোগ বালাই বা ফসলের তেমন ক্ষতি না থাকায় প্রতি বিঘা থেকে বছরে প্রায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা আয় হচ্ছে। কালীগঞ্জের সুন্দর দুর্গাপুর ইউনিয়নের আবুল কালাম আজাদ চার বছর ধরে তেজপাতা চাষ করছেন। তার নিজের ৩৫ শতাংশ জমিতে তেজপাতা চাষের জন্য বেছে নিয়েছেন। খুলনা থেকে তেজপাতার চারা এনেছিলেন। তার জমিতে ১৩০টি তেজপাতার গাছ রয়েছে। বছরে দুই বার সার দিয়ে থাকেন। বছরে প্রতি গাছ থেকে বছরে দুবার তেজপাতা সংগ্রহ করছেন। চার বছর বয়সী গাছ থেকে ৩৫ থেকে ৪০ কেজি পাতা সংগ্রহ করছেন। প্রতি কেজি তেজপাতা ৮০-৯০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তেজপাতা চাষী আবুল কালাম আজাদ জানান, তার বাগানে প্রথম বছর তিন মণ তেজপাতা উৎপাদন হয়। এর পরের বছর ৯ মণ পাতা সংগ্রহ করেন। সর্বশেষ গেল বছরে তেজপাতার বাগান থেকে ২৩ মণ পাতা সংগ্রহ করেছেন। আসছে মৌসুমে ২০ মণ পাতা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। আবুল কালাম আরো জানান, প্রতি কেজি তেজপাতা পাইকারি ৮০-৯০ টাকা দরে বিক্রি করে বাগান থেকে আয় করেছেন এক লাখ টাকার মতো। খরচ বাদ দিয়ে তার লাভ হয়েছে ৮০ হাজার টাকার মতো। এলাকার অন্য চাষীদের ভাষ্য, তেজপাতা চাষে তেমন খরচ হয় না। চারা লাগানোর পর শুধু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখাই প্রধান কাজ। রোগ বালাই নেই বললেই চলে। তবে বসন্তকালে পোকার আক্রমণের আশঙ্কা থাকে। সে সময় ওষুধ প্রয়োগ করলে সে আশঙ্কা থাকে না। বিঘা প্রতি তেজপাতার উৎপাদন খরচ মাত্র ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার মতো। আরো কয়েকজন চাষী জানান, তেজাপাতার সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে হলুদ, কলাগাছও লাগানো যায়। এতে এক সঙ্গে দুই ধরনের ফসল পাওয়া যায়। তেজপাতা চাষী জাহিদ হাসান বলেন, তেজপাতা চাষে আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। তাদের পরামর্শেই আমরা তেজপাতা চাষাবাদ করছি। এলাকায় নতুন ভাবে এই মসলা জাতীয় ফসল চাষে আগ্রহ বাড়ছে। জাহিদ হাসান আরো বলেন, অন্য ফসলের চেয়ে তেজপাতা চাষে খরচ খুব সামান্য। আর ফসলহানির ঝুঁকিও নেই তেমন। সে কারণে দিন দিন এলাকার অন্য চাষীরাও তেজপাতা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। জাহিদ হাসানের আশা অন্য ফসলের চেয়ে তেজপাতায় অনেক বেশি লাভ হবে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, তেজপাতা একটি নতুন অর্থকারী ফসল। সঠিক নিয়মে তেজপাতা চাষ করলে গতানুগতিক অন্য ফসলের চেয়ে তেজপাতায় বেশি লাভবান হবেন কৃষকরা। তাছাড়া তেজপাতা শুধু মসলা হিসেবেই ব্যবহার হয় না, এর রয়েছে ঔষধি গুণাগুণ। তেজপাতা গাছের বাকল থেকে তেল, ওষুধ, কীটনাশক ও সুগন্ধির উপকরণ পাওয়া যায়। সাথী ফসল হিসেবে তেজপাতার বাগানে নানাবিধ ফসলও চাষ করা যায়। সাধারণত বর্ষার মৌসুমে তেজপাতা গাছ রোপণ করা হয়। দুই বছরের মধ্যেই পাতা সংগ্রহ করা যায়। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া তেজপাতা চাষের উপযোগী। সে কারণে তেজপাতা চাষে এখানকার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে তেজপাতা চাষ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ করে ১নং সুন্দপুর দুর্গাপুর ইউনিয়নের কাদিরকোল, সিনদহ এলাকায় সবচেয়ে বেশি প্রায় ২০ বিঘা জমিতে তেজপাতার আবাদ হচ্ছে। এখানকার অর্ধশত চাষী তেজপাতা চাষে জড়িত। তবে পারিবারিক চাহিদা মেটাতে এখানকার প্রতিটি বাড়িতে দুই একটি করে তেজপাতা গাছ লাগানো হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ