News Bangla 24 BD | টঙ্গীতে করোনা রোগী সন্দেহে হাসপাতালে ঢুকতে দেওয়া হলো না অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাকে - News Bangla 24 BD
News Head
 গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন টঙ্গীতে গার্মেন্টস কারখানা খোলে দেয়ার দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ গাজীপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জে বালুবাহী ট্রাকসহ ভেঙে পড়ল ব্রিজ, আহত ৫ দেশের ১০ জেলায় চালু হচ্ছে আইসিইউ, জেলা হাসপাতালে মিলবে নিবিড় পরিচর্যা সেবা যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে শঙ্কিত ইসরায়েলিরা জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে চায় বাংলাদেশ বিটিভিতে আসছে অহিদুজ্জামান ডায়মন্ডের ধারাবাহিক ‘তবুও জীবন’ ফরিদপুরে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই স্বনির্ভর ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের সুনাম ক্ষুন্নের অপচেষ্টা, অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এলাকাবাসীর

টঙ্গীতে করোনা রোগী সন্দেহে হাসপাতালে ঢুকতে দেওয়া হলো না অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাকে


করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সন্দেহে অসুস্থ একজন মুক্তিযোদ্ধাকে হাসপাতালেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি। করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট দেখানোর পরও তিনি কোনো ধরণের সহানুভূতি ও চিকিৎসা সেবা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। টঙ্গী স্টেশন রোডের আবেদা জেনারেল (প্রা:) হাসপাতালে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধার নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি। তার বাড়ি টঙ্গী রেলওয়ে জংশনের উত্তর পাশে স্থানীয় নতুন বাজার এলাকায়।
মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর স্ত্রী গাজীপুর মহানগর মহিলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শিরিন শহীদ জানান, তার স্বামী শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ গত কয়েক দিন যাবৎ সামান্য জ্বর ও মাথা ব্যথায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার তাকে টঙ্গী গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে পরীক্ষায় তার করোনা নেগেটিভ আসে। পরে তার প্রশ্রাব পরীক্ষায় ইনফেকশন ধরা পড়ে। গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাপত্র নিয়ে তাকে বাসায় নেয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় হঠাৎ তার জ্বর ও মাথা ব্যথা বেড়ে গেলে তাকে প্রথমে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কোনো ডাক্তার না পেয়ে তাকে পাশেই আবেদা জেনারেল (প্রাইভেট) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর তার জ্বরের কথা শুনে হাসপাতালের গেটই খুলা হয়নি। এসময় তার সাথে থাকা করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট দেখিয়ে বহু অনুরোধ করার পরও কোনো ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মী তার কাছেই যাননি।
শিরিন শহীদ আরো বলেন, আমার স্বামীর অন্তত প্রেসারটা (রক্তচাপ) মেপে দেখার জন্য তাদেরকে বহু অনুরোধ করেছি। কিন্তু তাদের একটুকুও মায়া হয়নি। কোনো ধরণের সহযোগিতা ও সহানুভূতি দেখায়নি। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে অবশেষে বাধ্য হয়ে তাকে বাসায় ফেরত নেওয়া হয়। শুক্রবার সকালে তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে এদিন বন্ধের অজুহাতে তাকে পরের দিন (শনিবার) যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর তাকে উত্তরায় কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হলে করোনা পজেটিভ না থাকায় তাকে সেখান থেকেও ফেরত দেওয়া হয় এবং সাথে থাকা ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী বাসায় চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন তবে তার অবস্থা আশংকাজনক এবং তার প্রচন্ড জ্বর ও মাথা ব্যথা রয়েছে বলে শিরিন শহীদ জানান।
এদিকে রাতে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় যোগাযোগ করা হলে আবেদা প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ইফতেখার আহমেদ সাগর বলেন, আমার হাসপাতালে এমন হওয়ার কথা নয়, আমি সকলকে পিপিই-সহ সকল ধরণের সুরক্ষামূলক উপকরণ দিয়েছি। কেন এমন হলো আমি খবর নিচ্ছি।
অভিযোগ রয়েছে : আবেদা প্রাইভেট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সোহেল সরকারের কাছ থেকে চুক্তিভিত্তিক ভাড়াতে হাসপাতালটি পরিচালনা করে আসছেন। ইতিমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাড়িওয়ালাকে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ না করায় উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাড়িওয়ালাকে দেয়া জামানতের টাকা ভাড়া থেকে কর্তন করে আংশিক পরিশোধ করেন। তারপরও চলতি মাসসহ প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা বকেয়া থাকায় এবং একাধিবার সময় নিয়েও টাকা পরিশোধ না করায় বাড়িওয়ালা জেনারেটর রুমে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং হাসপাতালে তালা লাগিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন সেই সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। পরে অনতিবিলম্বে বকেয়া ভাড়ার টাকা পরিশোধ এবং উক্ত হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের অজুহাতে জেলা প্রসাশক বরাবর আবেদন করলে দেশের চলমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং করোনাসহ বিভিন্ন রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় প্রশাসন হাসপাতালটি খোলা রাখার নির্দেশ দেন। অথচ উক্ত হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের উদাসিনতা এবং কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এখানে কোন রোগীরাই চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। ফলে স্থানীয় রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এছাড়াও শহীদ আহসান উল্লাহ জেনারেল হাসপাতালের সামনে ও আশপাশে একাধিক হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স নেইসহ বিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ রোগীদের সেবাদান (শুধু বৈধ বা অবৈধ গর্ভপাত এমআরডিএনসি ব্যতিত) কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ