News Bangla 24 BD | আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ - News Bangla 24 BD
News Head
 খালেদা জিয়া ছিলেন সাহসের অনুপ্রেরণা-ডা. জুবাইদা রহমান প্রথম দেখায় নিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন প্রিয়াঙ্কা নারী বিপিএল আয়োজন চূড়ান্ত-বিসিবি ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’র পুরস্কার পেলেন খালেদা জিয়াসহ ৬ নারী গাজীপুরে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে গণতন্ত্র পূনরুদ্ধারে খালেদা জিয়ার অবদান শীর্ষক আলোচনা দোয়া ও ইফতার সংসদের খারাপ সংস্কৃতি মানুষের মন থেকে আমরা মুছে দেবো- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোয় মিলছে না তেল, গাড়ি আর মোটরসাইকেলের উপচে পড়া ভিড়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বাড়লো ২ উপদেষ্টার দায়িত্ব, মন্ত্রণালয় কমলো ৮ প্রতিমন্ত্রীর,  জিলাপিতে নিষিদ্ধ হাইড্রোজ ব্যবহার: মির্জাপুর বাজারের স্বপন মিষ্টান্নে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি সতর্ক করে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলো আগামী কয়েকদিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারে। এই ঘোষণার পরই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী এবং দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে পারে।

গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৯ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৩ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়ার এই ধারা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে পরিবহন খরচ খরচ বৃদ্ধি বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়াও হিটিং, খাদ্যপণ্য এবং আমদানিকৃত পণ্যের দাম বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, তাদের এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রে সামরিক হামলার কারণে তারা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। কাবি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।

সাদ আল-কাবির মতে, যদি এই যুদ্ধ চলতে থাকে, তবে বিশ্বজুড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি থমকে যাবে। জ্বালানির জ্বালা দাম আকাশচুম্বী হবে এবং কলকারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পণ্যের তীব্র সঙ্কট দেখা দেবে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গত সপ্তাহে ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে চীন, ভারত ও জাপানের মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলো, যারা অপরিশোধিত তেলের জন্য এই রুটের ওপর নির্ভরশীল, তারা চরম সঙ্কটের মুখে পড়েছে।

রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন এই পরিস্থিতিকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ‘বাস্তব ঝুঁকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে বোঝা যাচ্ছে না এটি কি একটি সাময়িক সঙ্কট নাকি এক বিশাল অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শুরু। যদি সরবরাহ ব্যবস্থা দুই সপ্তাহের বেশি বন্ধ থাকে, তবে বিশ্ব সামষ্টিক অর্থনীতিতে এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে।’

যুক্তরাজ্যের বাজার তদারকি সংস্থা সিএমএ এবং জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেম পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে দেশটিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, যদিও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে কয়েক সপ্তাহের তেল মজুত রয়েছে, কিন্তু সেই মজুত ফুরিয়ে গেলে এবং উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজার সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের জরুরি তেল মজুত বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করতে পারে, যেমনটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে করা হয়েছিল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ