পহেলা অগ্রহায়ণকে নবান্ন উৎসব ঘোষণা হচ্ছে
অগ্রহায়ণ মাস হেমন্তের শেষ অর্ধাংশে বাঙালির ধান কাটার উৎসব শুরু। কৃষক এ সময় মূলত আমন ধান কেটে ঘরে তোলেন। আর একে কেন্দ্র করে উদযাপিত হয় শস্যভিত্তিক লোকউৎসব নবান্ন। গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা নবান্ন উৎসবে মেতে উঠে রাজধানীবাসীও। আর এই উৎসবকে সরকারি স্বীকৃতি দিতে প্রতি বছরের পহেলা অগ্রহায়ণকে নবান্ন উৎসব হিসেবে ঘোষণা এবং দিবসটিকে উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
এরই মধ্যে মন্ত্রীপরিষদ সদস্যদের কাছে এর সারসংক্ষেপ বিলি করা হয়েছে। এছাড়া এদিন ‘কৃষি বিপনন আইন-২০১৮’ এবং ‘মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের খসড়া আইন-২০১৮’ নীতিগতভাবে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এদিন মোট ১৪টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রতি বছরের পহেলা অগ্রহায়ণকে নবান্ন উৎসব হিসেবে ঘোষণা এবং দিবসটিকে উদযাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ বিষয়ক পরিপত্রে ‘ক’ ক্রমিকে তা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।‘নবান্ন’ গ্রাম বাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী শস্যোৎসব। বাংলার কৃষিজীবী সমাজে শস্য উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে যে সব আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব পালিত হয়, নবান্ন তার মধ্যে অন্যতম। ‘নবান্ন’ শব্দের অর্থ ‘নতুন অন্ন’। নবান্ন হল নতুন আমন ধান কাটার পর সেই ধান থেকে প্রস্তত চালের প্রথম রান্না উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব।
আবার আসিব ফিরে ধান সিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়/ হয়তো মানুষ নয় হয়তো শঙ্খচিল শালিখের বেশে;/ হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে…’ (জীবনানন্দ দাশ)। বাংলার আদিগন্ত মাঠ জুড়ে এখন হলুদে-সবুজে একাকার। নয়নাভিরাম অপরূপ প্রকৃতি। সোনালি ধানের প্রাচুর্য। আনন্দধারায় ভাসবে কৃষকের মন-প্রাণ। বাড়ির উঠোন ভরে উঠবে নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধে। আসবে অগ্রহায়ণ। হিম হিম হেমন্ত দিন। কৃষিভিত্তিক সভ্যতার পুরোভাগে থাকা এই নবান্ন উৎসব অনাদিকাল হতে বাঙালির জীবন অধিকার করে আছে। লোককথায় এদিনকে বলা হয়ে থাকে বাৎসরিক মাঙ্গলিক দিন। এ সময় বিবিধ ব্যঞ্জনে অন্নাহার, পিঠেপুলির উৎসবের আনন্দে মুখর হয় জনপদ। মেয়েকে ‘নাইওর’ আনা হয়। নতুন ধানের ভাত মুখে দেওয়ার আগে কোথাও কোথাও মিলাদ, মসজিদে শিন্নি দেওয়ার রেওয়াজ আছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের কৃষকের ঘরে পূজার আয়োজন চলে ধুমধামে।সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান পাকার পর এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। কোথাও কোথাও মাঘ মাসেও নবান্ন উদযাপনের প্রথা রয়েছে। অতীতে গ্রাম বাংলায় অত্যন্ত সাড়ম্বরে নবান্ন উৎসব উদযাপন হত। তখন নবান্ন উৎসব সবার কাছে সবচেয়ে অসাম্প্রদায়িক উৎসব হিসেবে সমাদৃত ছিল। কালের বিবর্তনে গ্রাম বাংলায় ঐতিহ্যবাহী এই নবান্ন উৎসব বিলুপ্তপ্রায়। তবে এখনও বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু কিছু এলাকায় নবান্ন উৎসব উৎসব মুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়।জানা যায়, ১৯৯৮ সাল থেকে ঢাকা শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে নবান্ন উৎসব উদযাপন শুরু হয়। জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদ প্রতিবছর পহেলা অগ্রহায়ণ নবান্ন উৎসব উদযাপন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ও ধানম-ির রবীন্দ্র সরোবরের মুক্তমঞ্চে পালিত হয় এই নবান্ন উৎসব। উৎসবে নবান্ন কথন ছাড়াও সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি, যন্ত্রসঙ্গীত, লাঠিখেলা, পটগান, বয়াতীর দলের পালা আর আদিবাসীদের নৃত্য পরিবেশিত হয়ে থাকে।

সিলেটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ শ্রমমন্ত্রীর
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু
৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা ১১ দলের
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭০ জন
স্পিকারের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যাপক সংস্কার আনা হবে: ববি হাজ্জাজ 