News Bangla 24 BD | কোমরে ব্যথার কারণ ও কিছু সতর্কতা
News Head
 বাড়লো ২ উপদেষ্টার দায়িত্ব, মন্ত্রণালয় কমলো ৮ প্রতিমন্ত্রীর,  জিলাপিতে নিষিদ্ধ হাইড্রোজ ব্যবহার: মির্জাপুর বাজারের স্বপন মিষ্টান্নে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা দালালদের নিয়ন্ত্রণে গাজীপুর মহানগর ভূমি অফিস, সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই গাজীপুরে বিদেশী মদ সহ ২ জন গ্রেফতার গাজীপুরে পুলিশের অভিযানে ফুটপাত দখলমুক্ত হলেও গ্রেফতার হয়নি চাঁদাবাজরা বৈশ্বিক মান অনুযায়ী দেশের শ্রম আইন সংস্কারের নির্দেশ– প্রধান উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে বিদায় নেওয়ার আহ্বান – মাহমুদুর রহমান মান্না। স্মৃতিতে গাজীপুর ৪ ডিসেম্বর ২০১৩ তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন মোদি পুলিশকে গুলি করে হত্যায় কনস্টেবল কাউসার ৭ দিনের রিমান্ডে

কোমরের ব্যথা কমবেশি সব মানুষের হয়। এই ব্যথা সব বয়সেই হতে পারে। গবেষণায় বলা হয়, বিশ্বের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক লোক জীবনে কখনও না কখনও এ ব্যথায় আক্রান্ত হয়। শুরু থেকে কোমরের ব্যথা নির্মূল করতে না পারলে রোগীকে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

কোমর ব্যথার কারণ
সাধারণত দেখা যায় মেরুদণ্ডের মাংসপেশি, লিগামেন্ট মচকানো বা আংশিক ছিঁড়ে যাওয়া, দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক সমস্যা, কশেরুকার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে কোমর ব্যথা হয়ে থাকে। এছাড়া বয়সজনিত মেরুদণ্ডে ক্ষয় বা বৃদ্ধি, অস্টিওআথ্র্যাটিস বা গেঁটে বাত, অস্টিওপোরেসিস, এনকাইলজিং স্পনডাইলাইটিস, মেরুদণ্ডের স্নায়ুবিক সমস্যা, টিউমার, ক্যান্সার, বোন টিবি, কোমরের মাংসে সমস্যা,বিভিন্ন ভিসেরার রোগ বা ইনফেকশন, বিভিন্ন স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা, মেরুদণ্ডের রক্তবাহী নালির সমস্যা, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, মেদ বা ভুড়ি, অতিরিক্ত ওজন ইত্যাদি।

রোগনির্ণয়
-কোমরের কিছু পরীক্ষা রয়েছে। ফরোয়ার্ড বন্ডিং পরীক্ষা, ব্যাকওয়ার্ড বন্ডিং পরীক্ষা।
-নিউরোলজিক্যাল ডিফিসিয়েন্সি আছে কি না, তা নির্ণয় করা হয়।
-কোমরের এক্স-রে এবং এমআরআই করতে হবে।
-রক্তের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা হয়। ক্যালসিয়ামের পরীক্ষা, ইউরিক এসিডের পরিমাণ, শরীরে বাত আছে কি না-এসব পরীক্ষা করতে হয়।
-ক্রনিক ব্যাক পেনের ক্ষেত্রে এইচএলএবি-২৭ পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।

চিকিৎসা
-হালকা ব্যথা হলে ওষুধ এবং পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে।
-তীব্র ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি থেকে ফিজিওথেরাপি নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে তিন-চার সপ্তাহ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রাখা হতে পারে।
-আর কম ব্যথা হলে আউটডোর ফিজিওথেরাপি দেওয়া হয়ে থাকে।
-অনেকেই কোমর ব্যথা হলে বিভিন্ন ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে ফেলে। এটা একেবারে ঠিক নয়। বিভিন্ন কারণে কোমরে ব্যথা হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করা প্রয়োজন।

দৈনন্দিন কাজে সতর্কতা
– নিচ থেকে কিছু তোলার সময় কোমর ভাঁজ করে কিংবা ঝুঁকে তুলবেন না। হাঁটু ভাঁজ করে তুলুন।

– কোনো কিছু বহন করার সময় ঘাড়ের ওপর কিছু তুলবেন না। ভারি জিনিস শরীরের কাছাকাছি রাখুন। পিঠের ওপর ভারি কিছু বহন করার সময় সামনের দিকে ঝুঁকে বহন করুন।

– শোয়ার সময় উপুড় হয়ে শোবেন না। ভাঙ্গা খাট, ফোম বা স্প্রিংয়ের খাটে শোবেন না। সমান তোশক ব্যবহার করুন। বিছানা শক্ত, চওড়া ও সমান হতে হবে। শক্ত বিছানা বলতে সমান কিছুর ওপর পাতলা তোশক বিছানোকে বোঝায়।

– দাঁড়িয়ে থাকার সময় ১০ মিনিটের বেশি দাঁড়িয়ে থাকবেন না। হাঁটু না ভেঙে সামনের দিকে ঝুঁকবেন না। দীর্ঘক্ষণ হাঁটতে বা দাঁড়াতে হলে উঁচু হিল পরবেন না। অনেকক্ষণ দাঁড়াতে হলে কিছুক্ষণ পর পর শরীরের ভর এক পা থেকে অন্য পায়ে নিন। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হলে ছোট ফুট রেস্ট ব্যবহার করুন।

– বসে থাকার সময় আপনার চেয়ারটি টেবিল থেকে বেশি দূরে নেবেন না। সামনে ঝুঁকে কাজ করবেন না। কোমরের পেছনে সাপোর্ট দিন। এমনভাবে বসুন যাতে উরু মাটির সমান্তরালে থাকে। নরম গদি বা স্প্রিংযুক্ত সোফা বা চেয়ারে বসবেন না।

– যানবাহনে চড়ার সময় গাড়ি চলানোর সময় স্টিয়ারিং হুইল থেকে দূরে সরে বসবেন না। সোজা হয়ে বসুন। ভ্রমণে ব্যথার সময় লাম্বার করসেট ব্যবহার করুন।

– কোমর ব্যথা বেশি হলে বিছানা থেকে শোয়া ও ওঠার নিয়ম: চিৎ হয়ে শুয়ে এক হাঁটু ভাঁজ করুন। এবার অন্য হাঁটুটি ভাঁজ করুন। হাত দুটি বিছানায় রাখুন। এবার ধীরে ধীরে এক পাশ কাত হোন। পা দু’টি বিছানা থেকে ঝুলিয়ে দিন, এবার কাত হওয়া দিকের হাতের কনুই এবং অপর হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে ধীরে ধীরে উঠে বসুন। দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে বসুন এবং মেঝেতে পা রাখুন। এবার দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে সামনে ঝুঁকে দাঁড়ান।

মেয়েরা যেসব নিয়মকানুন মেনে চলবেন
– অল্প হিলের জুতো বা স্যান্ডেল পরুন, বিভিন্ন জুতোর হিলের উচ্চতা বিভিন্ন না হওয়াই উচিত।
– তরকারি কাটা, মসলা পেষা, কাপড় কাচা ও ঘর মোছার সময় মেরুদ- সাধারণ অবস্থায় এবং কোমর সোজা রাখুন।
– কোমর ঝুঁকে বাচ্চাকে কোলে নেবেন না। ঝাড়ু দেয়া, টিউবওয়েল চাপার সময় কোমর সোজা রাখবেন।
– মার্কেটিং বা শপিংয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট দাঁড়ানো বা হাঁটার পরে বিশ্রামের জন্য একটু বসবেন।
– বিছানা গোছানোর সময় কোমর ভাঁজ না করে বরং হাঁটু ভেঙে বসা উচিত।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ