দিরাইয়ে জলমহাল নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৩
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জারম্নলিয়া জলমহাল দখল নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতার লোকদের মধ্যে গোলাগুলিতে তিনজন মারা গেছেন।এছাড়া আহত হয়েছে আরো অন্তত ১০জন। মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন এবং বিকেলে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো গুলিবিদ্ধ আরো ২জন মারা যান। তবে পুলিশ জানিয়েছে দুপড়্গের মধ্যেই গুলিবিনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।
নিহতরা হলেন, তাজুল ইসলাম (৩৫), শাহারুল (২৮) ও উজ্জ্বল (২৫)। এ ঘটনায় জলমহাল এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ ঘটনাস্থল পরির্দশ করেছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ঘোরামারা সাতপাকিয়া প্রকাশিত জারুলিয়া জলমহাল দখল নিয়ে উপজেলা যুবলীগ নেতা ও একাধিক মামলার আসামি একরার হোসেন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মাসুক মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলছে। মাসুক মিয়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এহিয়া চৌধুরীকে নিয়ে জলমহালটি স্থানীয় মৎস্যজীবি ইজারাদার ধনঞ্জয় দাসের কাছ থেকে সাব ইজারা নিয়ে ভোগ দখল করে আসছেন।
এ নিয়ে গত বছরও উভয় পক্ষ জলমহাল দখল নিতে গিয়ে গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। সম্প্রতি মাসুক মিয়া সরকারি খাজনা পরিশোধ করে জলমহালে মৎস্য আহরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকাল ১১টায় একরার হোসেনের লোকজন বন্দুক ও দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জলমহাল দখল করতে গেলে মাসুক মিয়ার লোকজনও প্রতিরোধ করে দাড়ান।
ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরম্ন হয়। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষই বন্দুক ব্যবহার করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই দিরাই উপজেলার হাতিয়া গ্রামের চান মিয়ার ছেলে তাজুল ইসলাম নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন আকিল নগর গ্রামের ইসহাক মিয়ার ছেলে শাহারুল (২৮), হাতিয়া গ্রামের আমান উলস্নার ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (২৫), হাতিয়া গ্রামের আল আমিন (২৪), সোনাফর আলী (২৭) এবং সুরিয়ারপাড় গ্রামের মালেক মিয়াসহ কয়েকজন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে বিকেল সাড়ে ৪টায় চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান শাহারুল ও উজ্জ্বল মিয়া। অন্য আহতদের অবস্থাও সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
এদিকে অন্যান্য আহতদের দিরাই ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জলমহালের সাব ইজারাদার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মাসুক মিয়া বলেন, আমরা যথাযথভাবে সরকারকে খাজনা দিয়ে জলমহাল দখলপ্রাপ্ত হয়ে ভোগদখল করে আসছি।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে একাধিক মামলার আসামি একরার হোসেন দলবল নিয়ে অতর্কিত আমাদের লোকদের উপর গুলি চালায়। এতে আমাদের খলাঘরে থাকা কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। এর আগেও একরার হোসেন বন্দুক নিয়ে জলমহালে হামলা চালিয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা একারার হোসেন জানান, ইজারাদারদের কাছ থেকে তিনিও সাব ইজারা নিয়েছেন। মঙ্গলবার প্রতিপড়্গের লোকজন তার লোকজনের উপর হামলা চালিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল জলিল বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে একজন এবং সিলেটে ২জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে যে একজন মারা গেছেন তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যেই পাল্টাপাল্টি গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে।
সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যারা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হতাহতের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির তিন সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার
স্কুলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি প্রত্যাহার-শিক্ষামন্ত্রী
সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশন-ইউজিসির চেয়ারম্যান রদবদল
আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকছে না-প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ
বাণিজ্যিকভাবে ব্রেইন চিপ ডিভাইসের অনুমোদন দিয়েছে চীন
পপ তারকা টেইলর সুইফটই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী গায়িকা
পবিত্র ঈদুল ফিতর শেষে ফিরতি যাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু 