আকস্মিক বন্যায় সিলেটের তিন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের গোলাপগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে তিন উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বসত ঘর ও রাস্তাঘাট। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্লাবিত অঞ্চলের লাখো মানুষ।
নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একই সাথে তলিয়ে গেছে এসব উপজেলার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর ফসলি জমির ইরি ও বোরো ধান।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত থেকে রবিবার পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ, শরীফগঞ্জ, বুধবারীবাজার, বাঘা ও লক্ষিপাশা ইউনিয়নের ৬-৭টি গ্রামের লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। শরীফগঞ্জ ইউনিয়নে লম্বাবিল, গাংগুলি জলকুঞ্জ, ধলিয়ার বিল, চিকনহাটির বিল, নিমের বিল, ছাতাছুড়া, নিনকুড়ি, পলভাংরা, চাতলাবিল, মাইছলার বিল, হাতকুড়ি, হুআল্লার বিল ও ধুদাই বিলে প্রায় দেড় হাজার একর জমির ইরি ও বোরো ধান তলিয়ে গেছে। হাকালুকি হাওড়ে উৎপাদিত বাদাম, গম, মিষ্টি আলু, গোল আলু, ফরাস, মিষ্টিকুমড়া, সরিষা, মাশকলাই, ধনিয়া, মরিছ, বেগুন, টমেটো, করল্লা, মাশকলাই ও মিষ্টি আলু এখন পানির নিচে।
রবিবার সরেজমিন পরিদর্শন কালে দেখা যায় বসত বাড়িতে পানি উঠায় অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। বসত বাড়িতে পানি উঠায় অনেকেই তাদের গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে রয়েছেন। আবার অনেককেই গবাদি পশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে দেখা গেছে। নদীর তীরবর্তী মানুষজনের মাঝেও বিরাজ করছে নদী ভাঙ্গন আতঙ্ক। এদিকে বন্যার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে কয়েকটি এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
অতি বৃষ্টির কারণে উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ বাজারের প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।বেশ কয়েকটি দোকানের ভিতরে ঢুকে গেছে পানি। স্কুল কলেজ মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রীরা পড়েছেন বেপাকে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খায়রুল আমীন জানিয়েছেন আকস্মিক বন্যায় উপজেলার ৪০২ হেক্টর বোরো ধান নিমজ্জিত হয়েছে। তবে বন্যার পানি দ্রুত কমে গেলে কৃষকদের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে, অতি বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে বালাগঞ্জ উপজেলার হাওরগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় কয়েক হাজার হেক্টর বোরো জমির কাঁচা ধান তলিয়ে গেছে। গত কয়েক দিনের বিরামহীন বৃষ্টিতে নলুয়া হাওর, মাছুয়া হাওর, রৌয়ার হাওর, চাতল হাওর ও মাইজ আইল হাওর সহ উপজেলার ছোটবড় হাওর গুলোর নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। ফলে এসব হাওরের বোরো ফসলের অর্ধেকেরও বেশি কাঁচা ধান তলিয়ে গেছে পানির নিচে। এর মধ্যে অনেক কৃষকের শতভাগ ক্ষেতই ছিল হাওরের নিম্নাঞ্চলে। যার সব গুলোই এখন পানির নিচে।
উপজেলা কৃষি অফিসের হিসেব অনুযায়ী চলতি রোরো মৌসুমে সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো’র আবাদ হয়েছে। কুশিয়ারা ডাইকের সুইস গেইটগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে অনেক খালের মুখে সুইস গেইট না থাকায় হাওরে পানি প্রবেশ করছে।
বালাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, পানিতে তলিয়ে যাওয়া বোরো জমির পরিমান মোট চাষাবাদের অর্ধেকের চাইতে কম হবে। তবে বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতায় এ পযন্ত বোরো ধানের ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ চলছে। বর্তমানে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় হাওরগুলো প্লাবিত হওয়ার পরিমাণ আরোও বাড়তে পারে।
এদিকে ওসমানীনগরে সুইস গেইটে পানি নিষ্কাষন না হওয়ায় কয়েকটি হাওরের কয়েক হাজার বোরো ফসল পানতে তলিয়ে গেছে। অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে হাওরগুলোর কাঁচা ধান তলিয়ে যাওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের মাথায় হাত ওঠেছে। ওসমানপুর ইউনিয়নের হাউনিয়া-ছানিয়া হাওর উপ-প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সুইস গেইট বন্ধ থাকায় হাওরগুলোর ভিতরের পানি নিস্কাষন হচ্ছে না। সুইস গেইটের কারনে হাওরের ভিতরে প্রায় ৪ ফুট উঁচু হয়ে পানি আটকে আছে বলে স্থানীয় বাসিন্ধা ও কৃষকরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর ময়মনসিংহ, সিলেট ও ফরিদপুর এলাকায় ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার ব্যয়ে দু’টি হাওর উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে হাউনিয়া-ছানিয়া হাওরে এই স্লুইস গেইট নির্মান করা হয়েছিল। হাউনিয়া-ছানিয়া হাওর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ওসমানপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ময়নুল আজাদ ফারুক। কিন্তু হাওর পানিতে তলিয়ে গেলেও সুইস গেইট দিয়ে পানি নিষ্কাষনের বিষয়ে দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যাননি বলে অভিযোগ ওঠেছে।
১৩ কেদার জমির ফসল হারিয়ে ভর্গাচাষী নূরুল ইসলামের মাথায় হাত ওঠেছে। নূরুল ইসলাম (৩৫) দয়ামীর ইউনিয়নের খাগদিওর গ্রামের বিত্তহীন বর্গাচাষী। ১৬ কাঠা ধান দেয়ার শর্তে ৩৫হাজার টাকা দাদন এনে রুনিয়া হাওরে ১৩ কেদার জমিতে বুরো ফসল লাগিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মোমিন পুরে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সর্বনাশা সুইস গেইটে পানি আটকানোর কারণে গোটা রুনিয়া হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে। এতে কৃষক নূরুল ইসলাম যেনো বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। তার জিজ্ঞাসা-এবারতো বন্যা হয়নি, হয়েছে অতিবৃষ্টি। নূরুল ইসলাম প্রতি কেদার বুরো জমিতে প্রায় ৫ হাজার টাকা খরছ করেছেন। কিন্তু তার পরিবারের আগামী দিনের ভয়াবহ দূরবস্থা কে সামলাবে? যাঁরা এই দূরবস্থার জন্য দায়ী তাঁদের বিচার করবে কে?
কৃষকরা জানান, প্রায় ১ ফুট পানির নীচে হাওরগুলোর বোরো ধান। কিন্তু মোমিনপুর নামক স্থানে হাউনিয়া-ছানিয়া হাওর উপ-প্রকল্পের আওতায় নির্মিত স্লুইস গেইটের উজানে ৩-৪ ফুট পানির ব্যবধান থাকা সত্ত্বে প্রজেক্ট কর্মকর্তাদের খামখেয়ালীপনা ও অপরিকল্পিতভাবে সংকীর্ণ পরিসরে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকায় কৃত্তিম জলাবন্ধতার কারণে নূরুল ইসলামের মত সহস্রাধিক কৃষক আজ সর্বশান্ত হতে চলেছেন।
অপরদিকে, টানা বর্ষন আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গোয়াইনঘাট উপজেলার নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। চৈত্র মাসের শুরু থেকেই গোয়াইনঘাট জুড়েই দেখা দিয়েছে অকাল বন্যা। জমি গুলোতে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে বিনষ্ট হয়ে পড়েছে কৃষকের রোপায়িত ১৩’শ ২৮ হেক্টর জমির ইরি ও বোরোসহ রবি শষ্য। ক্ষতিসাধিত হয়ে পড়েছেন উপজেলার কয়েক সহস্রাধিক কৃষক পরিবার।
সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইরি ও বুরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। তবে বর্তমানে এ অঞ্চলে অকাল বন্যায় দেখা দিয়েছে কৃষকদের আহাজারী। সরজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায়, উপজেলার ব্রামন হাওর, আসামপাড়া হাওর, বাউরভাগ হাওর, ভিত্রিখেল হাওর, তিতকলি হাওরসহ প্রায় ৮-১০টি হাওরে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।
উপজেল কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য মতে এ বছর উপজেলায় ১৩শ’ ২৮ হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে। কৃষক আব্দুল গফুর মিয়া বলেন, আমি এবার ৩ একর জমিতে বোরো চাষ করেছিলাম। অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে আমার সকল ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।

টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির তিন সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার
স্কুলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি প্রত্যাহার-শিক্ষামন্ত্রী
সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশন-ইউজিসির চেয়ারম্যান রদবদল
আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকছে না-প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ
বাণিজ্যিকভাবে ব্রেইন চিপ ডিভাইসের অনুমোদন দিয়েছে চীন
পপ তারকা টেইলর সুইফটই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী গায়িকা
পবিত্র ঈদুল ফিতর শেষে ফিরতি যাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু 