বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিদের জন্য থাকবে ৮ স্তরের নিরাপত্তা বলয়
রাজধানীর অদূরে গাজীপুরের টঙ্গী তুরাগ নদীর তীরে আগামী ১২ জানুয়ারি থেকে প্রথম পর্বের তিন দিন ব্যাপী ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমা শুরু হচেছ। বিশ্ব ইজতেমায় আগত লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তায় জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮ স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলা হবে বলে জানিয়েছে আইন শৃংখলা বাহিনী । ইতি মধ্যে বিশ্ব ইজতেমার সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। দেশী-বিদেশী মুসল্লিদের জন্য থাকবে আট স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা । মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের ৭ হাজার সদস্য ও র্যাবের ২৫০জন সদস্য মাঠে থাকবে। এ বছর বিশ্ব ইজতেমায় গতবারের চেয়ে প্রায় দেড় হাজার পুলিশ সদস্য ও ৫টি ওয়াচ টাওয়ার বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪১টি সিসি ক্যামেরা ইজতেমা মাঠের চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে। ময়দানের প্রতিটি খিত্তায় ৬ জন করে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) এর টঙ্গী আঞ্চলিক কার্যালয়ে রোববার দুপুরে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার চুড়ান্ত ফলোআপ মূলক পর্যালোচনা সভায় বক্তারা সাংবাদিকদেরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহাম্মদ হারুন অর রশীদ আজ জানান, ইজতেমার মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে ৮ স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলা হবে। এ জন্য ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে।
তিনি আরো বলেন, চলতি বছর বিশ্ব ইজতেমায় গতবারের চেয়ে প্রায় দেড় হাজার পুলিশ সদস্য ও ৫টি ওয়াচ টাওয়ার বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ৫০০ পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। এ ছাড়া ৪১টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ময়দানের প্রতিটি খিত্তায় ৬ জন করে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল শেখ আজ জানান, বিশ্ব ইজতেমা আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ৮ স্তরে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে পোশাকে, সাদা পোশাকে, ওয়ার্চ টাওয়ারের মাধ্যমে, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে, চেকপোস্টের মাধ্যমে, মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে, নৌ টহল ও ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং করা হবে। পুলিশের পক্ষে থেকে ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে।
র্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্ট্যান্ট কর্ণেল সারওয়ার বিন কাশেম আজ জানান, টঙ্গী তুরাগ পাড়ের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমায় লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য র্যাবের পক্ষ থেকে ২৫০জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবে সর্বদা নিয়োজিত থাকবে। র্যাবের পক্ষ থেকে ৯টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পোশাকে, সাদা পোশাকে, ওয়ার্চ টাওয়ারের মাধ্যমে, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে, চেকপোস্টের মাধ্যমে, মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে, নৌ টহল ও ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ইজতেমা মাঠের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং করা হবে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান আজ জানান, বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র্যাব, আনসার ও ভিডিপি পৃথক ৫টি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি মুসল্লিদের অভিনন্দন ও স্বাগত জানাতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিশ্ব ইজতেমা মাঠের প্রবেশ পথে ১৩টি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের ওযু, পয়ঃনিষ্কাষণ ও সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্য ইজতেমা মাঠে স্থাপিত ১৩টি গভীর নলকূপ দ্বারা ১৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটিার পাইপ লাইনের মাধ্যেমে প্রতিদিন ৩ কোটি ৫৪ লাখ গ্যালন সুপেয় পানি সরববরাহ নিশ্চিত করা হবে।ইজতেমা চলাকালীন ২১টি গার্বেজ ট্রাকের মাধ্যমে দিন-রাত বর্জ্য অপসারণ করা হবে।
গাসিক মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান আরো জানান, বিশ্ব ইজতেমার উপলক্ষে টঙ্গী ও আশপাশ এলাকার সিনেমা হল সমূহ বন্ধ এবং দেয়ালের অশ্লীল পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। ইজতেমা মাঠে আগত বিদেশি মেহমানদের রান্নার জন্য ১৩৬টি গ্যাসের চুলা স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ইজতেমা মাঠ সংলগ্ন এলাকায় ৪৫ টি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে
বিশ^ ইজতেমার আয়োজক কমিটির মুরব্বি প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন আমেদ আজ জানান, বিশ্ব ইজতেমার মাঠসহ আনুসাঙ্গিক কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে যাবতীয় কাজ শেষ হয়ে যাবে।
তিনি আরো জানান,২০১৮ সালের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমপর্ব শুরু হবে আগামী ১২ জানুয়ারি। ১৪ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রথমপর্ব শেষ হবে। চার দিন পর ১৯ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয়পর্ব। একইভাবে ২১ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দ্বিতীয়পর্ব। দুই পর্বে সারা মুসলিম জাতির সুখ,শান্তি,কল্যাণ,অগ্রগতি,ভ্রাতিত্ববোধ কামনা করে আখেরী মোনাজাত করা হবে। দেশ-বিদেশের প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ লোকের সমাগম ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক কমিটি।
রোববার দুপুরে গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) এর টঙ্গী আঞ্চলিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার ফলোআপ সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো: জাহিদ আহসান রাসেল। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এম বজলুল করিম চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হেলাল উদ্দীন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম রাহাতুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১) এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্ট্যান্ট কর্ণেল সারওয়ার বিন কাশেম, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান, বিশ্ব ইজতেমার মুরব্বী ইঞ্জিনিয়ার মেজবাহ উদ্দীন, ড. রফিকুল ইসলাম, মো. গিয়াস উদ্দীন আহমেদসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ গ্রহন করেন।

কেরানীগঞ্জে সাড়ে ৪ কোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ তিন পাচারকারী আটক
চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়িয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়
গাজীপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের ৩৪জন নেতাকর্মী গ্রেফতার
এইচএসসি পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের প্রস্তুতিমূলক সভা
নাশকতার আশঙ্কা ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন
জুলাই আন্দোলনে ৬ জনকে হত্যা: ইনুর মামলার রায় ৩০ জুন
আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকার নিরাপত্তায় ১৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন
৬ রাতে কর্ণফুলী টানেলে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে 