News Bangla 24 BD | গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাপা একাংশের সমর্থন পাচ্ছেন আ.লীগের জাহাঙ্গীর আলম - News Bangla 24 BD
News Head
 দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই-সেতুমন্ত্রী টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির তিন সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার স্কুলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি প্রত্যাহার-শিক্ষামন্ত্রী সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশন-ইউজিসির চেয়ারম্যান রদবদল আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকছে না-প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ছন্দ হারায় বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে ব্রেইন চিপ ডিভাইসের অনুমোদন দিয়েছে চীন পপ তারকা টেইলর সুইফটই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী গায়িকা পবিত্র ঈদুল ফিতর শেষে ফিরতি যাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাপা একাংশের সমর্থন পাচ্ছেন আ.লীগের জাহাঙ্গীর আলম


গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী না দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে সমর্থন দিতে যাচ্ছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির একাংশ।
জাতীয় পার্টি গাজীপুরের একাংশের নেতারা আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে সমর্থন দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যদিও এখনও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে কেন্দ্রিয় ও স্থানীয় ভাবে দলের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে এবং সকল মতভেদাভেদ ভূলে একত্রে এ ঘোষনা দিতে পারেন বলে জানান মহানগর জাতীয় পার্টির একাধিক নেতাকর্মী।
গাজীপুর সদর পৌরসভা এবং সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন বিলুপ্ত করে এবং টঙ্গী পৌরসভা মিলিয়ে গঠিত হয়েছে সিটি করপোরেশন। পোশাক কারখানা অধ্যুষিত এই অঞ্চলটিতে বৃহত্তর রংপুরের বিপুল পরিমাণ শ্রমিক কাজ করেন, যাদের একটি বড় অংশ এই এলাকার ভোটার হয়েছেন।
রংপুর অঞ্চলের এই শ্রমিকদের মধ্যে জাতীয় পার্টি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় ফলে দলের আনুষ্ঠানিক সমর্থন যে কোনা প্রার্থীর জন্য সুখকর হতে পারে। টঙ্গীতে নানা সময় জাতীয় পার্টির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়েছেন কখনো বিএনপি আবার কখনো আওয়ামীলীগ।
গাজীপুরে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে। গত ১২ এপ্রিল মনোনয়ন জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে মেয়র পদে নয় জনের প্রার্থীতা টিকেছে। এই নয় জনের মধ্যে জাতীয় পার্টির কেউ নেই।
এদিকে নির্বাচনে মূলত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম এবং বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকারের মধ্যে।
আশির দশকে টঙ্গীতে জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী নেতা ছিলেন হাসান সরকার ও তার পরিবার। এরশাদ সরকারের পতনের পর তিনি বিএনপিতে যোগদেন।
বিএনপি আশা করছে হাসান উদ্দিন সরকার তার পুরোনো দল জাতীয় পার্টির সমর্থকদের ভোট বাগিয়ে নিতে পারবেন। তবে গাজীপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন আর্মি এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, তারা কেন্দ্রিয় ভাবে দলের নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ আলোচনার পর জাহাঙ্গীর আলমকে কে সমর্থন দিতে পারেন। তিনি আরো বলেন, দলীয়ভাবে আমরা গাজীপুর সিটি নির্বাচনে কোন প্রার্থী দিচ্ছি না। তবে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে সমর্থন জানানোর জন্য স্থানীয় ভাবে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ মহানগর জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে ডেকেছেন। ইনশাআল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থনের বিষয়টি তখন ঘোষণা হবে।
কেন্দ্র থেকে ঘোষণা আসলে পার্টির স্থানীয় সব নেতা কর্মীই এক সাথে কাজ করবে জানিয়ে গাজীপুর মহানগর জাতীয় পার্টির নেতা বলেন, ‘সংগঠন করতে হলে অবশ্যই আদেশ মানতে হবে। পার্টি যাকে সমর্থন দিবে প্রত্যেক নেতাকর্মী তার পক্ষেই নির্বাচনের মাঠে কাজ করবে।
জানা যায়, জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়া না হলেও কাউন্সিলর পদে বেশ কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন। মহানগরের ৫৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪টিতে সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলের ১ পদে দলের প্রার্থী রয়েছে। মেয়র পদে সমর্থন দেয়ার বিনিময়ে এসব কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের ছাড় আশা করছে জাতীয় পার্টি।
গাজীপুরে জাতীয় পার্টির এই সমর্থন ব্যাপকভাবে কাজে লাগবে বলে আশাবাদী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। এব্যাপারে জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান বলেন, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাবে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে শুনেছি। এরশাদ সাহেব গাজীপুরে তাদের প্রার্থী দেবেন না বলে আগেই জানিয়েছেন। সুতরাং আমরা আশাবাদী জাতীয় পার্টি আমাদেরকে সমর্থন দেবে।
শুধু জাতীয় পার্টি নয়, মহাজোটের শরিক দলের সকল নেতৃবৃন্দের সাথে আমরা আলোচনা করব। স্থানীয় এমপি জাহিদ আহসান রাসেলকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সকলের সমর্থন নিয়ে নৌকার প্রার্থীকে আমরা বিজয়ী করব।
আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি ২০০৬ সালে বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় জোটবদ্ধ হয়। ২০০৭ সাল বাতিল হওয়া জাতীয় নির্বাচনের আগে এই দুই দলের পাশাপাশি বর্তমানে বিএনপির শরিক এলডিপি, সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা এবং ১৪ দল মিলিয়ে গঠন হয় মহাজোট। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে এলডিপি ও বিকল্পধারাকে বাদ দিয়ে মহাজোট নির্বাচন করে। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টি মহাজোট ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে ওই নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে জাতীয় পার্টিতে নানা নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়। এরশাদের নেতৃত্বে দলের একটি অংশ ভোট বর্জনের কথা বললেও ভোট যায় তার স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে একটি অংশে। আর ভোট শেষে রওশন এরশাদ হন বিরোধী দলীয় নেতা। হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ হন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ