টঙ্গীর হামীম গ্রুপের ক্রিয়েটিভ কালেকশনে ব্যাপক ভাংচুর ॥ পুলিশসহ আহত ১২
স্টাফ রিপোর্টার : টঙ্গীর মিলগেট নামা বাজার হামীম গ্রুপের ক্রিয়েটিভ কালেকশন নামের গার্মেন্ট কারখানায় চুরির অভিযোগে অমানুষিক নির্যাতনের দুইদিন পর গার্মেন্টকর্মীর মৃত্যু হয়েছে এই গুজবকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে ব্যাপক ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এতে ৭ জন শিল্প পুলিশসহ অন্তত: ১২জন আহত হয়েছে। আহতদের টঙ্গী সরকারি হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি ও চিকিৎসা করা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার সিসি ক্যামেরা, ১৪টি গাড়ি ও গ্রুপের অন্যান্য কারখানার বিভিন্ন অফিসে গণহারে ভাংচুর চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। এলাকাবাসী ও কারখানার শ্রমিকরা জানায়, গত বৃহস্পতিবার হামীম গ্রুপের ক্রিয়েটিভ কালেকশন-১ গার্মেন্ট কারখানা ছুটি হলে গেটে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীরা তল্লাশি চালিয়ে তৈয়ব আলী (৩৫) নামের এক ওয়াশিং শ্রমিকের কোমরে বাধাঁ অবস্থা থেকে একটি বাচ্চার প্যান্ট উদ্ধার করে। পরে তাকে আটকে রেখে নিরাপত্তা ইনচার্জ হাবিবুর রহমান ও নিরাপত্তাকর্মী আল আমিনের নেতৃত্বে তাদের সহযোগীরা বৃহস্পতিবার রাতভর ও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত দুই দিনব্যাপি অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে তৈয়ব আলী নিথর হয়ে পড়লে তাকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার সরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে না নিয়ে উত্তরার ধউর এলাকার ইস্ট-ওয়েস্ট হাসাপাতালে নিয়ে ভর্তি করা করেন। পরে গতকাল শনিবার সকাল ৮ টায় কারখানার নিরাপত্তা কর্মী ও কর্মকর্তাদের নির্যাতনে তৈয়ব আলী মারা গেছে এমন খবর শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে তারা উত্তেজিত হয়ে উঠে এবং ব্যাপক ভাংচুর শুরু করে। খবর পেয়ে গাজীপুর জেলা শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করলে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং পুলিশকে ধাওয়া দেয় ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এক পর্যায়ে পুলিশ ৪ রাউন্ড শর্টগান ও ১ রাউন্ড চাইনীজ রাইফেলের গুলি ছুঁড়ে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করে। এতে শ্রমিকরা বেপরোয়া হয়ে এলোপাথারি ভাংচুর শুরু করে এবং পুলিশসহ কারখানার স্টাফদের ওপর হামলা চালায়। শ্রমিকদের ইটপাটকেলে শিল্পপুলিশের এএসআই রেজাউল করিম (৩৮), কনষ্টবল আব্দুল কাদের (২৬), জাহাঙ্গীর আলম (২২), রায়হান পাঠান (২৩), ফারুক খান (২৩), মো. খোকন (২২), সাব্বির সানি (২২) এবং গার্মেন্টকর্মী মো. গোলাপ (৩০) ও সিরাজ মিয়া (৪৫)সহ প্রায় ১২ জন আহত হয়। এদের মধ্যে মাথায় গুরুত্বর আঘাতপ্রাপ্ত শিল্প পুলিশের এএসআই রেজাউল করিমকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে হামীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একে আজাদ ঘটনাস্থলে পৌছে শ্রমিকদের শান্ত করেন। কর্তৃপক্ষ পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ।
এব্যাপারে টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছি। এব্যাপারে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী আর নেই
ভৈরবে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুর রউফের স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন
আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সংঘর্ষের আশঙ্কা, মাঠপর্যায়ে পুলিশের বিশেষ নির্দেশনা
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
টঙ্গীতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, কারখানাকে জরিমানা
অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে কাশিমপুরে গেস্ট হাউস থেকে ১১ নারীসহ আটক ১৬
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বারোপ 