News Bangla 24 BD | অদৃশ্য এক ফাঁদে তরুণ প্রজন্ম আসক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে - News Bangla 24 BD
News Head
 রামিসা হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের টিমের নেতৃত্বে অ্যাটর্নি জেনারেল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ গাজীপুরে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ সালের বাজেট জনকল্যাণ হোক মূল লক্ষ্য স্থানীয় নির্বাচন হবে নির্দলীয়, আওয়ামী লীগও অংশ নিতে পারবে : মাসুদ কামাল দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নারীর মৃত্যু অদৃশ্য এক ফাঁদে তরুণ প্রজন্ম আসক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের তাগিদ জামালপুর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার ব্যক্তিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর ২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটের প্রস্তাবিত অর্থবিলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর

অদৃশ্য এক ফাঁদে তরুণ প্রজন্ম আসক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে


নিউজ বাংলা বিডি ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির ভয়াবহ প্রভাব কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের দৈনন্দিন জীবনে মানসিক এবং শারীরিক ক্ষেত্রে ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তাদের অনেকেই বিষণ্নতা, উদ্বেগ, খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা এবং ঘুমের অনিয়মের মতো নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এতটাই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে যে, কেউ কেউ নিজের জীবনকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে, ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনাও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকে স্বাস্থ্যকর উপায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলেও তরুণ প্রজন্মের একটি অংশের মধ্যে গুরুতর আসক্তি তৈরি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী এক লেখায় এমনই আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন এসএমভিএলসির প্রতিষ্ঠাতা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ পি. বার্গম্যান। তার ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তির কারণে অদৃশ্য এক ফাঁদে পড়েছে তরুণ প্রজন্ম। তারা মানসিক ও শারীরিক উভয়ভাবেই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির প্রভাব : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হওয়া যোগাযোগ প্রায়ই কৃত্রিম। এখানে থাকা বিজ্ঞাপন ও ছবি অনেক সময় সম্পাদিত ও অবাস্তব হয়। অনেক তরুণ এগুলোকে বাস্তব মনে করে নিজেদের জীবন ও চেহারার সঙ্গে তুলনা করে এবং সেই মানে পৌঁছানোর চেষ্টা করে, যা প্রায়ই ব্যর্থ হয়। তরুণদের পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রভাবের জন্য মামলা করা হচ্ছে।
ঘুমের ঘাটতি : গবেষণায় দেখা যায়, আমেরিকানরা গড়ে দিনে ৩৪৪ বার তাদের ফোন চেক করে। এতে অনেক কিশোর-কিশোরী ঘুমের ঘাটতি হয়। ফলে তারা বিষণ্নতা, আত্মহত্যা প্রবণতা, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, মনোযোগের সমস্যা, অস্থিরতা, মাদকাসক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস সর্বোত্তম ঘুমের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা ডিভাইস ব্যবহারের সুপারিশ করে।
বাস্তব জীবনে দায়িত্বে অবহেলা : অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বাস্তব জীবনের সম্পর্ক ও দায়িত্বের চেয়ে অনলাইন সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিতে বাধ্য করে। বারবার নোটিফিকেশন চেক করার বাধ্যতামূলক প্রবণতা দৈনন্দিন কাজ ও কথোপকথনে বিঘ্ন ঘটায়। শিক্ষা : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি শিক্ষা অর্জনে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটাতে পারে। এর কারণ হতে পারে পড়াশোনার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
সম্পর্ক : অনলাইন সম্পর্কের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ বাস্তব জীবনের কথোপকথনে মনোযোগ দিতে বাধা দেয়। ফলে বিচ্ছিন্নতা বাড়ে, বন্ধুত্ব নষ্ট হয় এবং সামাজিক দক্ষতা কমে যায়। হীনম্মন্যতার সৃষ্টি : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণদের নিজেদের পরিচয় ও ভাবমূর্তি পরিবর্তনে উৎসাহিত করে, যার ফলে তারা নিজেদের কম যোগ্য মনে করে। তারা অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে নিজেকে অপ্রতুল ও আকর্ষণহীন মনে করতে শুরু করে। এর ফলে আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং তারা বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরে ভার্চুয়াল পরিচয়ে আশ্রয় নেয়। শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে উদ্বেগ : তরুণরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের নিজেদের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় মনে করে। ফলে অ্যানোরেক্সিয়া, বুলিমিয়া, কঠোর ডায়েটিংসহ খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা বাড়ছে।
আত্মবিধ্বংসী আচরণ : ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত চাপ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণে তরুণদের মধ্যে আত্মবিধ্বংসী আচরণ বৃদ্ধি পায়। অনলাইনে বেশি সময় কাটানো তরুণদের মধ্যে আত্মক্ষতির প্রবণতা বাড়ায়।
আত্মহত্যা : ১০-২৪ বছর বয়সিদের আত্মহত্যার প্রবণতা সৃষ্টির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, সাইবারবুলিং, ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, আত্মক্ষতি ও আত্মহত্যা সম্পর্কিত কনটেন্ট দেখা, নেতিবাচক সামাজিক তুলনা, নিজের প্রতি অসততা, সামাজিক সংযোগের অভাব এবং মুড ডিসঅর্ডার। সন্তানদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসক্তি থেকে মুক্ত করতে অভিভাবকদের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সন্তানদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কৌশল শেখানো, স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ, উদ্দেশ্যপূর্ণ ব্যবহার শেখানো, নোটিফিকেশন বন্ধ রাখার মতো জরুরি বিষয়গুলো দেখভাল করতে হবে। প্রয়োজনে থেরাপি বা চিকিৎসা নেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে হবে।  তথ্যসূত্র : সোশ্যাল মিডিয়া ভিকটিমস ল সেন্টার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ