গাজীপুরে বিএনপির কর্মী সভায় পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ২০, আটক ১৫
গাজীপুরে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের যৌথ কর্মী সভায় পুলিশের লাঠিচার্জ ও দেয়াল টপকে পালাতে গিয়ে ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
রবিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সবুজ জানান, শহরের ট্রাস্ট কমিউনিটি সেন্টারে রবিবার সকালে জেলা বিএনপি যৌথ কর্মী সভা আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মো. জয়নাল আবেদিন ফারুক।
জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন সভা সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. সাইয়েদুল আলম বাবুল, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য মাজহারুল আলম, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব উদ্দিন, সদর উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সুরুজ আহমেদ, গাজীপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হান্নান মিয়া হান্নু প্রমুখ।
তাদের বক্তব্য শেষে দুপুর ১২টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল শেখের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা ও জয়দেবপুর থানার বিপুল সংখ্যক পুলিশ ওই কমিউনিটি সেন্টার ঘিরে ফেলে। ওই সময় ভেতরে দুই হাজারের বেশি কর্মী ছিলেন। অনেকেই গেট দিয়ে প্রবেশ করতে ছিলেন। পুলিশ মূল গেটে অবস্থান নিয়ে কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক এবং লাঠিচার্জ করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ভেতরে অবস্থানকারী নেতাকর্মীরা গ্রেফতার এড়াতে কমিউনিটি সেন্টারের পেছনের দেওয়াল টপকে পালাতে শুরু করে। পরে কর্মীসভা সংক্ষিপ্ত করে নেতারা বেরিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে।
এ সময় জয়নাল আবেদিন ফারুক ও ফজলুল হক মিলনের সাথে পুলিশের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলে।
পুলিশের লাঠিচার্জে আহত জেলা বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. নাহিন আহমেদ মমতাজী (৪৫), শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম মোল্লাহ (২৮), গাজীপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, জেলা ছাত্রদল কর্মী ফারুক আহমদ (২৭), এরশাদ সরকার (২৫), মো. কবির (২৮) ও দীপুর (২৫) নাম জানা গেছে। এদের মধ্য নাহিন আহমেদ মমতাজীর পা ভেঙ্গে যায়। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আটকদের মধ্যে গাজীপুর সদর থানা বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক পূবাইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সোলায়মান খান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক গাজী সুলতান শাহজাহান জুয়েল, ছাত্রদল কর্মী ফারুক (২৭), এরশাদ সরকার (২৫), কবির হোসেন (২৮) ও দীপুর (২৫) নাম জানা গেছে।
পুলিশের দাবি, বিনা অনুমতিতে আয়োজিত সভাস্থলে দলীয় কোন্দলে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।
ফজলুল হক মিলন জানান, কমিউনিটি সেন্টারটি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে কর্মী সভার আয়োজন করা হয়েছিল। শান্তিপূর্ণ সভায় নেতাকর্মীদের নির্দয় ভাবে পিটিয়েছে পুলিশ। লাঠিচার্জ ও পালাতে গিয়ে বিএনপি নেতা নাহিন মোমতাজি, ছাত্রদল নেতা ফারুক, কবির, এরশাদ, জাসাস নেতা দিপু, মামুন, সাদ্দামসহ কমপক্ষে তাদের ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ জানান, পুলিশের অনুমতি ছাড়া বিএনপি ওই সভার আয়োজন করেছিল। এতে তাদের নিজস্ব কোন্দলে সংর্ঘষ হয়। এ ঘটনায় ১৫জনকে আটক করা হয়েছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

টাঙ্গাইল সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৬ মেট্রিকটন চাল ট্রাক সহ লুটের চেষ্টা
গাজীপুরে পুলিশের অভিযানে পলাতক আসামীসহ ৩৩ আটক
ঈদুল ফিতরের আগে বুধ ও বৃহস্পতিবার তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা
গাজীপুরে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে গণতন্ত্র পূনরুদ্ধারে খালেদা জিয়ার অবদান শীর্ষক আলোচনা দোয়া ও ইফতার
সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোয় মিলছে না তেল, গাড়ি আর মোটরসাইকেলের উপচে পড়া ভিড়।
জিলাপিতে নিষিদ্ধ হাইড্রোজ ব্যবহার: মির্জাপুর বাজারের স্বপন মিষ্টান্নে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা
দালালদের নিয়ন্ত্রণে গাজীপুর মহানগর ভূমি অফিস, সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই
গাজীপুরে বিদেশী মদ সহ ২ জন গ্রেফতার 