সিলেটের তাজ ট্রাভেলসের টাকা লেনদেন : মানবপাচারকারীদের কবলে পড়ে সিলেটি কাওসার নিহত
অবৈধ ভাবে দালালদের মাধ্যমে বিদেশ পাড়ি জমাতে গিয়ে অনেকেই মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে, কেউ পাড়ি দেন কাঙ্খিত লক্ষে, আর কারো সমাধি হয় পথিমাধ্যেই, কাঙ্খিত পৌছলেই শেষ নয়, দালালদের নিত্য নতুন অত্যাচারতো থাকেই। এবার মানব পাচারকারীদের কবলে পড়ে সিলেটের বাহুবলের এক তরুণের দক্ষিণ আফ্রিকায় রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার সহযাত্রী অপর তরুণ রয়েছেন ভয়াবহ সংকটে। ট্রাভেলসের টাকা লেনদেন থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে পিঠিয়ে হত্যা করা হয়েছে কাওসার এলাহীকে । হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা সদরস্থ হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা মরহুম মাওলানা আশিক এলাহীর পুত্র কাওসার এলাহী (২২)। বাহুবলে মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে তিরি দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। বৃহস্পতিবার তার লাশ দেশে আসার পর জানাযা নামাজ শেষে ছুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়ে। ছুরতহালকারী স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, লাশের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। সিলেটের ‘হাজী শরিফ উদ্দিনের’ মালিকানাধিন ‘তাজ ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস’ নামক জিন্দাবাজারের কানিজ প্লাজার নিচ তলায় একটি ট্রাভেলস তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠায় বলে পারিবারিক সূত্রে জানাযায়। গত ৮ অক্টোবর পাচারকারীদের মাধ্যমে বাই রুটে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশের পর তাকে পিঠিয়ে হত্যা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বজনদের হাতে লাশ হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টায় বাহুবল মডেল থানা পুলিশ নিহতের লাশের ছুরতহাল সম্পন্ন করে। বেলা আড়াইটায় উপজেলা সদরস্থ কাসিমুল উলুম মাদরাসা মাঠে কয়েক হাজার মুসল্লীর অংশগ্রহণে নিহতের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করা হয়।
নিহতের জানাযার পূর্বে মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে স্থানীয় বক্তারা বলেন, কাওসার এলাহীকে সিলেটের ‘হাজী শরিফ উদ্দিনের’ মালিকানাধিন ‘তাজ ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস’ নামক জিন্দাবাজারের কানিজ প্লাজার নিচ তলায় একটি ট্রাভেলস তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাচারের পর তাদের ‘আদম পাচারকারী চক্র’ তাকে নির্মমভাবে পিঠিয়ে হত্যা করে। আমরা এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
অন্যান্যের মাঝে এ সময় বক্তব্য রাখেন বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হাই, নবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর চৌধুরী, বাহুবল মডেল থানার ওসি মনিরুজ্জামান, নিহতের চাচা হাবিবুর রহমান মকছুদ, মাওলানা আব্দুল বারী আনছারী, মাওলানা সাইফুল ইসলাম ও মাওলানা আব্দুন নূর প্রমুখ।
এ সময় বাহুবল মডেল থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা লাশের ছুরতহাল সম্পন্ন করেছি। এ সময় নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এতে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাই ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, বাহুবল উপজেলা সদরস্থ হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা মরহুম মাওলানা আশিক এলাহীর পুত্র কাওসার এলাহী (২২) সম্প্রতি লন্ডন যাবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরপর সে মধ্যপ্রাচ্য সহ বিভিন্ন দেশে যাবার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠে। সম্প্রতি সে জালাল মিয়া নামে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জালালের মাধ্যমে সিলেটের ‘হাজী শরিফ উদ্দিনের’ মালিকানাধিন ‘তাজ ট্রাভেলস এন্ড ট্যুর’ নামক একটি ট্রাভেলস তাকে দক্ষিণ আফ্রিকা পাঠায়।
নিহত কাওসার ও একই উপজেলার ছোঁয়াপুর গ্রামের আব্দুর রউফ মেম্বারের পুত্র আশিকুর রহমান কাওসার সিলেটের ‘হাজী শরিফ উদ্দিনের’ মালিকানাধিন ‘তাজ ট্রাভেলস এন্ড ট্যুর’ নামক একটি ট্রাভেলস-এর মাধ্যমে জনপ্রতি ৬ লাখ টাকা কন্ট্রাকে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার বন্দোবস্ত করে। গত ৫ অক্টোবর ঢাকা থেকে বিমানযোগে বোম্বে ও বোম্বে থেকে ইতোফিয়া এবং ইতোফিয়া থেকে মুজাব্বিকে যাত্রা করে তারা। পচার হওয়া দলটিতে বাহুবলের কাওসার এলাহী ও আশিকুর রহমান কাওসার সহ মোট ১২ জন ছিল। দালালরা ১২ সদস্যের দলটিকে মুজাব্বিক থেকে বাইরুটে পাচার করে দক্ষিণ আফ্রিকায়। গত ৮ অক্টোবর তারা দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছে। ৯ অক্টোবর দালালদের মাধ্যমে খবর আসে কাওসার এলাহী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। ওইদিনই রাতের বেলা দালালরা স্বীকার করে কাওসার এলাহী দক্ষিণ আফ্রিকায় মারা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পাচারের পর সীমান্ত এলাকায় তাকে পিঠিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহতের চাচা হাবিবুর রহমান (মকছুদ) বলেন, মৃত্যুর খবর জানার পর কাওসার এলাহীর লাশ আমরা বহু চেষ্টা-তদবির করে দক্ষিণ আফ্রিকাস্থ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সাবেরিক সিশতি সোসাইটি’-এর মাধ্যমে দেশে আনার ব্যবস্থা করি। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ‘ইত্তেহাদ এয়ার লাইন’-এর একটি বিমানে তার লাশ ঢাকাস্থ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছে। শেষ রাতে আমরা লাশ নিয়ে বাহুবল পৌঁছি। বৃহস্পতিবার দুপুরে লাশ শেষ বারের মতো দেখার জন্য কফিন খোলার পর দেখতে পাই তার মুখমন্ডলে বেশ ক’টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে শরীরের অন্যান্য অংশ পরীক্ষা করে আরো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাভেলসের সাথে দক্ষিন আফ্রিকার পার্টিদের (যারা মানুষদের রিসিভ করে) সাথে টাকা লেনদেন থাকায় আফ্রিকায় নিয়ে তারা পেসিন্জারকে পিঠিয়ে হত্যা করেছে।
এদিকে, শুক্রবার নিহতের বাসায় গিয়ে দেখে গেছে নিহতের স্বজনরা শোকের মাতম করছেন। তাদের আর্তনাদে এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
নিহতের মা মাহমুদা আখঞ্জী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার একমাত্র পুত্রকে যারা হত্যা করেছে এবং যারা হত্যাকান্ডে সহযোগিতা করেছে আমি তাদের সকলের ফাঁসি চাই।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে-ইরানের স্পিকার
পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড উদ্বোধন
প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ আর নেই
দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই-সেতুমন্ত্রী
টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির তিন সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার
স্কুলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি প্রত্যাহার-শিক্ষামন্ত্রী
সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশন-ইউজিসির চেয়ারম্যান রদবদল
আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকছে না-প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত 