News Bangla 24 BD | চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা: যানবাহন ভাংচুর, আগুন
News Head
 বাড়লো ২ উপদেষ্টার দায়িত্ব, মন্ত্রণালয় কমলো ৮ প্রতিমন্ত্রীর,  জিলাপিতে নিষিদ্ধ হাইড্রোজ ব্যবহার: মির্জাপুর বাজারের স্বপন মিষ্টান্নে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা দালালদের নিয়ন্ত্রণে গাজীপুর মহানগর ভূমি অফিস, সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই গাজীপুরে বিদেশী মদ সহ ২ জন গ্রেফতার গাজীপুরে পুলিশের অভিযানে ফুটপাত দখলমুক্ত হলেও গ্রেফতার হয়নি চাঁদাবাজরা বৈশ্বিক মান অনুযায়ী দেশের শ্রম আইন সংস্কারের নির্দেশ– প্রধান উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে বিদায় নেওয়ার আহ্বান – মাহমুদুর রহমান মান্না। স্মৃতিতে গাজীপুর ৪ ডিসেম্বর ২০১৩ তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন মোদি পুলিশকে গুলি করে হত্যায় কনস্টেবল কাউসার ৭ দিনের রিমান্ডে

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা: যানবাহন ভাংচুর, আগুন


চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস রুবেলকে (২৫) হত্যার প্রতিবাদে নগরীর নিউ মার্কেট মোড়ে যানবাহনে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ একদল ছাত্রলীগ কর্মী। নেতাকর্মীরা দুইটি বাসে আগুনসহ আটটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাংচুর করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এসময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এতে ওই সড়কে প্রায় আধঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। শুক্রবার বিকেলে নগরের নিউমার্কেট মোড় এলাকায় শহরতলীতে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে, সকালে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে নগরের সদরঘাট থানার ৭৫১ দক্ষিণ নালাপাড়ার বন্দনা কুঠিরের সুদীপ্ত বিশ্বাস রুবেলকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান। নিহত সুদীপ্ত বিশ্বাস (২৫) নগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগ নেতা খুনের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকালে নগরের নিউমার্কেট মোড় এলাকায় শহরতলীর দুটি বাসে আগুন আটটি সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধ সিটি কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এসময় ওই সড়কে প্রায় আধঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।

সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মর্জিনা আকতার বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৭টা থেকে আটটার মধ্যে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয় সুদীপ্ত বিশ্বাসকে। থানায় কেউ খবর দেয়নি। দুপুর ১২টা সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যুর পর হাসপাতাল থেকে খবর পেয়েছি। রাজনৈতিক অথবা ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে এ খুনের ঘটনা ঘটতে পারে। এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। কি কারণে এ হত্যাকাণ্ড তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সামনে মেঝেতে বসে আহাজারি করছিলেন সুদীপ্ত বিশ্বাসের বাবা মেঘনাদ বিশ্বাস ও তার স্বজনরা।
মেঘনাদ বিশ্বাস বলেন, ভোরে নগরের আন্দরকিল্লা পঞ্চানন ধামে পূজায় অংশ নিতে গিয়েছিলাম। সাড়ে ৮টার দিকে বাসা থেকে ফোন করে হাসপাতালে আসতে বলা হয়। এসে দেখি আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি কিছু জানি না।’ ‘আমি কি বিচার পাবো। কাকে বিচার দিবো। বিচার চেয়ে লাভ হবে না।’ বলেও তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের আবাসিক চিকিৎসক সৈয়দ আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘তার শরীরের হাতে পায়ে ও মাথায় আঘাত রয়েছে। মাথার আঘাতের কারণে মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।’

নগরের সদরঘাট রোড থেকে দক্ষিণ নালাপাড়ার সড়ক দিয়ে মাত্র ২৬০ মিটার গেলেই সুদীপ্তদের বন্দনা কুঠির। সড়কের সঙ্গে লাগোয়া মুল গেইট। গেইট পার হলে সামনে ছোট গলি চলে গেছে ভেতরে। সামান্য বামে তাদের বাসা। বাসার গেইটের সামনেই তাকে পিটিয়ে খুন করা হয়। সুদীপ্তর বাসা থেকে থানার দূরত্ব মাত্র ৬৫০ মিটার। হেটে গেলে বড়জোড় সাত মিনিট। গাড়িতে মাত্র তিন মিনিটের রাস্তা। তবুও ঘটনার পাঁচ ঘণ্টা পর খবর পেয়েছে থানা পুলিশ।

দুপুরে বাসায় গিয়ে দেখা যায়, বাসার সামনে বসে আহাজারি করছেন সুদীপ্তের মা আন্না বিশ্বাস ও তাদের স্বজনরা। এদের মধ্যে এক নারী জানান, ‘ভোরে সুদীপ্তের বাবা বেরিয়ে যাওয়ায় বাসার গেইট খোলা ছিল। ২৫-৩০ বছর বয়সী দু’জন ছেলে এসে আমাকে বলেন সুদীপ্ত বাসায় আছে কিনা। আছে জানালে তারা আমাকে বলেন তাদের এক বন্ধুর বাবা মারা গেছে,সুদীপ্তকে ডেকে দিতে হবে। আমি গিয়ে সুদীপ্তকে ডেকে দিই। সে খালি গায়ে বেরিয়ে এসে রাস্তার দিকে চলে যায়। এরপর হইচই শুনে রাস্তার দিকে গিয়ে দেখি তাকে মারধর করছে। তাড়াতাড়ি গিয়ে তার মাকে ডেকে নিয়ে আসি।’

সুদীপ্তের মা আন্না বিশ্বাস বলেন, ‘আমি বের হয়ে দেখি গেইটের সঙ্গে হেলান দিয়ে বসে আছে আমার ছেলে। কয়েকজন ছেলে সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে চলে যাচ্ছে। আমি গেলে সে শরীরে ব্যাথা বলে চিৎকার করে উঠে। পানি খেতে চায়। পাশে ঘরবাড়ি আছে। কেউ আমার ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। পরে লোকজনকে ডেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’ ‘আমার ছেলেকে ছাড়া কিভাবে বাঁচবো।’ ‘জানোয়ারগুলো আমাকেও কেন নিয়ে গেল না’। ‘আমার ছেলেকে মাথায় মারছে’। আহাজারি করতে করতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিবেশী জানান, ভোরে পূজার ফুলের জন্য গিয়েছিলাম। ৭টা ২০মিনিটের দিকে বাসা থেকে মেয়ে ফোন করে বলে বাসার সামনে ঝামেলা হচ্ছে এখন না যেতে। দেখি মূল সড়কে ১০-১২টি সিএনজি অটোরিকশায় করে ছেলেরা চলে যাচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ