News Bangla 24 BD | অপরাধী যেই হোক কেন, আইনের আওতায় অবশ্যই আনা হবে -গাজীপুরের এসপি শামসুন্নাহার - News Bangla 24 BD
News Head
 দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই-সেতুমন্ত্রী টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির তিন সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার স্কুলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি প্রত্যাহার-শিক্ষামন্ত্রী সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশন-ইউজিসির চেয়ারম্যান রদবদল আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকছে না-প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ছন্দ হারায় বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে ব্রেইন চিপ ডিভাইসের অনুমোদন দিয়েছে চীন পপ তারকা টেইলর সুইফটই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী গায়িকা পবিত্র ঈদুল ফিতর শেষে ফিরতি যাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু

অপরাধী যেই হোক কেন, আইনের আওতায় অবশ্যই আনা হবে –গাজীপুরের এসপি শামসুন্নাহার


গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে তিন কলেজছাত্র অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই এএসআইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার এসব তথ্য জানান। গ্রেপ্তরকৃতরা হলেন, গাজীপুর কালিয়াকৈর থানার এএসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং টাঙ্গাইল মির্জাপুর থানার এএসআই মুসফিকুর রহমান।
এসময় শামসুন্নাহার আরো জানান, অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আটককৃত দুই এএসআইয়ের বিরুদ্ধে কালিয়াকৈর থানায় ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৩৪২, ৩৬৫, ৩৮৫, ৩৮৭ এবং ১৭০ মোতাবেক বৃহস্পতিবার ২০ নং মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আরো ৬-৭ জন আসামী করা হয়েছে। অপহরণকারী দুই পুলিশ সদস্যের অপকর্মের দায়ভার পুলিশ বাহিনী নেবে না। আটককৃত আসামীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলেও পুলিশ সুপার জানান।
অপহরণের পর মুক্তি পাওয়া কালিয়াকৈরের রায়হান সরকার, লাবীব হোসেন ও শ্রীপুরের নওশাদ ইসলাম সাংবাদিকদের জানায়, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা পাঁচ বন্ধু মিলে রাজধানীর বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্য একটি প্রাইভেটকারযোগে রওয়ানা দেয়। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর এলাকায় শিলা-বৃষ্টি ফিলিং স্টেশনে গাড়িতে গ্যাস নিতে তারা যাত্রাবিরতী দেয়। এসময় গাড়ি থেকে নেমে তৈবুল্লাহ ও রাকিবুল রহমান ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন চায়ের দোকানে যায়। এসময় স্টেশনটিতে দুটি গাড়ি নিয়ে সাদা পোশাকে হাজির হয় এএসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং মুসফিকুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরো ৮/৯জন। পরে ওই দুই এ এস আইয়ের সহযোগিতায় অজ্ঞাত আরো কয়েকজন মিলে তাদেরকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে টাঙ্গাইলের দিকে রওয়ানা দেয়। পথিমধ্যে অপহৃতরা জানায় তাদের দুই বন্ধু ফিলিং স্টেশনে রয়ে গেছে। পরে অপহৃতদের টাঙ্গাইল মির্জাপুরের দেওড়া এলাকায় নির্মাণাধীন এশটি সেতুর নিচে নেয়া হয়। সেখানে অপহৃতদের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ওই দুই এএসআই। অন্যথায় তাদের ক্রসফায়ারের হুমকি দেয়া হয়। পরে এক পর্যায়ে দেন দরবার করে মুক্তিপণ কমিয়ে ১০ লাখ টাকা ধার্য করে অপহরণকারীরা।
এদিকে ফিলিং স্টেশনে অহরণের কবল থেকে রক্ষা পাওয়া তৈবুল্লাহ ও রাকিবুল রহমান সাংবাদিকদের জানায়, জোড়পূর্বক বন্ধুদের তুলে নেয়ার খবর তাৎক্ষণিকভাবে তারা মোবাইল ফোনে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ও গাজীপুর পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারকে জানায়। অপহরণকারী সম্মুখ বিপদ বুঝতে পেয়ে অপহৃতদের নিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় যায়। পরে অপহৃতদের অপহরণকারীরা মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ততোক্ষণে অপহরণের খবর ফাঁস হওয়ায় কালিয়াকৈর থানার ওসি মির্জাপুর থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে অপহৃতদের মির্জাপুর থানা থেকে কালিয়াকৈর থানায় আনে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে অপহরণের অভিযোগ তদন্তে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ঘটনার সত্যতা পায়। বিষয়টি পুলিশের ওপর মহলে জানাজানি হলে কালিয়াকৈর থানার এএস আই আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং টাঙ্গাইল মির্জাপুর থানার এএস আই মুসফিকুর রহমানকে নিজ নিজ পুলিশ লাইনে প্রথমে প্রত্যাহার এবং পরে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ