News Bangla 24 BD | ১৪ মে গাজীপুরের বাড়ীয়া গণহত্যা দিবস - News Bangla 24 BD
News Head
 দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই-সেতুমন্ত্রী টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির তিন সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার স্কুলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি প্রত্যাহার-শিক্ষামন্ত্রী সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশন-ইউজিসির চেয়ারম্যান রদবদল আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকছে না-প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ছন্দ হারায় বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে ব্রেইন চিপ ডিভাইসের অনুমোদন দিয়েছে চীন পপ তারকা টেইলর সুইফটই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী গায়িকা পবিত্র ঈদুল ফিতর শেষে ফিরতি যাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু

১৪ মে গাজীপুরের বাড়ীয়া গণহত্যা দিবস


॥ মুকুল কুমার মল্লিক ॥
১৪ মে গাজীপুরের বাড়ীয়া গণহত্য দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে গাজীপুর সদর উপজেলার হিন্দু প্রধান বাড়ীয়া গ্রামে স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নৃশংস হামলা চালিয়ে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে হত্যা করে প্রায় ২শত নারী-পুরুষ ও শিশু। হামলায় কয়েকশ লোক আহতও হয়। গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে হামলা, অগ্নি সংযোগ ও লুটতরাজ চালায় বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী।
বাড়ীয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা সদস্য বিজয় দাস জানান ১৯৭১ সালের ১৪ মে (১৩৭৮ সালের ২৯ বৈশাখ) দুপুর ১ টার দিকে স্থানীয় রাজাকার আউয়াল, হাকিম ও মজিদ মিয়াসহ কিছু রাজাকারের সহায়তায় গাজীপুর শহরের জয়দেবপুর ভাওয়াল রাজবাড়ি সেনা নিবাস থেকে ২ শতাধিক পাকিস্তানী সেনা সদস্য বাড়ীয়া গ্রামে হামলা চালায়। জয়দেবপুর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরবর্তী বাড়ীয়া গ্রামে ঢুকেই সেনা সদস্যরা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করতে থাকে। গুলিবর্ষণে বাড়ীয়া ও পার্শ^বর্তী কামারিয়া গ্রামে গ্রামবাসীসহ উভয় গ্রামেই আশ্রয় নেয়া প্রায় দু’শ নারী-পুরুষ ও শিশু নিহত হয়। তাছাড়া আহত হয় আরো কয়েক’শ মানুষ। মানুষ হত্যা করেই পাকিস্তানী বাহিনী খ্যান্ত হয়নি। তারা রাজাকারদের সহায়তায় গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। তা ছাড়া নারী নির্যাতন ছাড়া ব্যাপক লুট-পাট চালায়। পাকিস্তানী বাহিনীর আক্রমণে দিশাহারা হয়ে কিছু লোক বেলাই বিল পার হয়ে আশেপাশের গ্রামে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টাকালেও তাদের ওপর ব্যাপক গুলিবর্ষণ করা হয়। পলালয়নরত ওইসব লোকজনদের সঙ্গে থাকা জিনিষপত্রও তারা লুট করে নেয়। হিন্দুঅধ্যুষিত বাড়ীয়া গ্রামে পাকিস্তানী বাহিনীর এমন ভয়াবহ আক্রমণে ও নির্বিচারে লোকজন হত্যা করার খবর আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে আশেপাশের গ্রামের লোকজনদের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে লোকজন আরো দূরে চলে যেতে বাধ্য হয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকে বাড়ীয়া গ্রামে এটাই ছিল ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ।
মুক্তিযোদ্ধা বিজয় দাস সেদিন পাকিস্তানী বাহিনীর আক্রমণে যারা নিহত হয়ে ছিলেন তাদের একটি তালিকা (অসম্পূর্ণ) দিয়েছেন। তালিকা থেকে পাওয়া নিহতদের নাম জয়ধনি দাস, সহদেব দাস, হরিচরণ দাস, অক্ষয় কুমার দাস, নদেন্দ্র চক্রবর্তী, ছায়া রাণী দে, অপু রাণী দে, তুলসী রাণী দাস, করপূলা রাণী দাস, সচিন্দ্র চন্দ্র দাস, বিজয় চন্দ্র দাস, মোঃ সাহাবুদ্দিন বেপারী, ছাহেরা বেগম, ওয়াজেদ ভূঁইয়া, অদুদ ভুঁইয়া, মমতাজ বেগম, মোঃ বাকির ভূঁইয়া, হরেন্দ্র চন্দ্র শীল, মনদা সুন্দরী শীল, ভানু চন্দ্র শীল, তরুবালা শীল, দিপালী বালা শীল, বেণু চন্দ্র শীল, মনীন্দ্র চন্দ্র শীল, মালতী রাণী শীল, প্রেমবালা শীল, সত্য রঞ্জন মালী, চারু বালা শীল, বেনু বালা শীল, সাধনা রাণী শীল, জ্ঞানদা রাণী শীল, বুল রাণী দে, অবনী মোহন দে, ফুলু রাণী দে, অনুবালা শীল, ঝর্ণা রাণী শীল, নিরদা রাণী শীল, কোকা রাম দাস, বিপুলা রাণী দাস, হিরণী রাণী দাস, শরৎ চন্দ্র দাস প্রমুখ।
সেদিন বালু নদ পার হয়ে বেঁচে যাওয়া হরেন্দ্র শীলের ছেলে বাবুল শীল ও কাবুল শীল জানান পাকিস্তানী বাহিনীর হামলায় তাদের বাবা মা বড় ভাই ও তিন ভাতিজি প্রাণ হারিয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধা বিজয় দাস জানান তিনি তখন ১০ম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। পাকিস্তানী বাহিনী সেদিন প্রায় ২শ মানুষ হত্যা করেছিল। কিন্ত নিহদের পরিবারের সদস্যরা যথাযথ সম্মান ও আর্থিক সহায়তা পাননি। তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা ও গ্রামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ