News Bangla 24 BD | খ্যাতিই যার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল - News Bangla 24 BD
News Head
 ঢাকা শহরে যানজট নিরসনে ১১টি প্রস্তাবনা যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে-ইরানের স্পিকার পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড উদ্বোধন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ আর নেই দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই-সেতুমন্ত্রী টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির তিন সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার স্কুলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি প্রত্যাহার-শিক্ষামন্ত্রী সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশন-ইউজিসির চেয়ারম্যান রদবদল আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকছে না-প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ

মায়াময় নীলাভ চোখের যে ব্রিটিশ রাজবধূ পৃথিবীজুড়ে বিখ্যাত ছিলেন সৌন্দর্য আর মানবিক কর্মকান্ডের জন্য, তিনি প্রিন্সেস ডায়ানা । ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূদের মধ্যে ইতিহাসে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন ।

সুন্দরীদের ‘সুন্দরী’ ডায়ানার প্রয়াণ দিবস আজ। ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট প্যারিসের রিজ হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন এই প্রিন্সেস।তার সঙ্গে মিসরীয় বংশোদ্ভূত প্রেমিক ধনকুবের দোদি আল ফায়েদও মারা যান।

মৃত্যুর আগের বছর ১৯৯৬ সালের শেষ দিকে ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয় প্রিন্সেস ডায়ানার। এই বিচ্ছেদের পর ডায়ানাকে অনেক কিছু ছাড়তে হয়েছে।

বিয়ে বিচ্ছেদের পর ডায়ানার রাজকীয় উপাধি বদলে ফেলা হয়। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ যদিও তার সেই উপাধি রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রিন্স চার্লস তা চাননি। এ জন্য প্রিন্সেস অব ওয়েলসের সেই উপাধি কেড়ে নেওয়া হয়। তবে ডায়ানাকে কেনসিংটন প্যালেসে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। এটি এখন উইলিয়াম, কেট মিডলটন এবং তাদের সন্তানদের বাসভবন। ডায়ানাকে বিনোদনের জন্য নির্ধারিত সেন্ট জেমস প্যালেস ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। রানি এলিজাবেথ সেটি ব্যবহার করার অনুমতি দেন।

ডায়ানার গয়নার বাক্সটিও কিছুটা হালকা হয়ে যায়। তাকে বিয়ের সব গয়না রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন রানি এলিজাবেথ। তবে বিয়ের সময় পরা মুকুটটি ডায়ানা নিতে পারেননি। কেবল বিয়ের সময়ই একবার এই মুকুট পরতে পারেন রাজবধূরা। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে কেট মিডলটনকে এই মুকুট পরতে দেওয়া হয়। এটির ওপর এখনো রানির অধিকার রয়েছে।

তবে আলাদা হলেও সন্তানদের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেছিলেন চার্লস ও ডায়ানা। মা–বাবার সঙ্গে পছন্দমতো সময় কাটাতে পারতেন উইলিয়াম ও হ্যারি। বোর্ডিং স্কুল ছুটির সময়ে দুই ভাই ভাগাভাগি করে মা-বাবার সঙ্গে সময় কাটাতেন। বিচ্ছেদের পর থেকে ১৯৯৭ সালের আগস্ট মাসে ডায়ানার মৃত্যু পর্যন্ত মা-বাবার সান্নিধ্যে কেটেছে দুই ভাইয়ের।

প্রিন্সেস ডায়ানার অবয়ব মানসপটে ভেসে উঠলেই যে কারোর নজর কাড়তো তার মনকাড়া সৌন্দর্য। রানি এলিজাবেথের এই পুত্রবধূর হৃদয়টাও ছিল সোনায় মোড়া! ‘হাউস অফ উইন্ডসর’-এর চৌকাঠ ডিঙিয়ে তিনি আন্তরিকভাবেই মিশে যেতেন সাধারণ মানুষের মধ্যে।

ডায়ানার জন্ম ১ জুলাই, ১৯৬১। তার পুরো নাম ডায়ানা ফ্রান্সেস স্পেন্সার। বিবাহ পরবর্তী নাম ডায়ানা ফ্রান্সেস মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর। যুবরাজ চার্লসের প্রথম স্ত্রী এবং ১৯৮১ হতে ১৯৯৭ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের যুবরাজ্ঞী। তার পুত্র রাজপুত্র উইলিয়াম ও হ্যারি, ব্রিটিশ মসনদের উত্তরাধিকারীদের তালিকায় যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয়।

বিয়ের পর থেকে ১৯৯৬ তে বিবাহ বিচ্ছেদ পর্যন্ত তাকে সম্বোধন করা হত ‘হার রয়াল হাইনেস দি প্রিন্সেস অফ ওয়েল্স’। এর পরে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের আদেশক্রমে তাকে শুধু ডায়ানা, প্রিন্সেস অফ ওয়েল্স বলে সম্বোধনের অনুমতি দেয়া হয়।

প্রিন্সেস ডায়ানা ও চার্লসের প্রেম ছিল সেরা রোমাঞ্চকর । ডায়ানাকে দেখেই তার রূপে মুগ্ধ হয়েছিলেন তৃতীয় চার্লস। চার্লসের দৃষ্টিতে ডায়না পৃথিবীর সেরা সুন্দরী। আর ডায়ানার দৃষ্টিতেও প্রিন্স চার্লসই সবচেয়ে আরাধ্য পুরুষ। দুজন দুজনের প্রেমে মজে গেল। সারা বিশ্বে ঝড় উঠল।

রানী এলিজাবেথ প্রথমে এ বিয়েতে অমত করলেও পরে রাজি হয়ে যান। ১৯৮১ সালের ২৯ জুলাই ধুমধামের সঙ্গে তাদের বিয়ে হয় । বিশ্বের প্রায় ৫০০ কোটি মানুষ টেলিভিশনের পর্দায় উপভোগ করল সত্যিকারের এক রাজকীয় বিয়ে। তখন প্রিন্স চার্লসের বয়স ৩২ আর প্রিন্সেস ডায়ানার বয়স ২০। রাজকীয় জাহাজ ব্রিটানিয়াতে চড়ে হানিমুন করলেন তারা। সব ঠিকঠাক মতোই চলছিল। কিন্তু বিয়ের এক বছরের মাথায় ডায়ানা অনুভব করলেন চার্লস তাকে আগের মতো আর ভালোবাসেন না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ